জীবনে সফল হওয়ার কিছু উপায়

জীবনে সফল হওয়ার কিছু উপায়



সবাই জীবনে সফল হতে চায়। সবাই চায় সমাজে তার একটা নাম হবে। সবাই তাকে চিনবে। কিন্তু সাফল্য পাওয়া এতটা সহজ নয়।

“সাফল্য অর্জন করা আর সফল হওয়া এক নয়। সুবিধা পেলে অনেকেই সফল হতে পারে। অনেককে জোর করে সফল বানানো হয়। কিন্তু যে নিজের চেষ্টা আর পরিশ্রম দিয়ে সফল হয় – সেই প্রকৃত সাফল্য অর্জন করে”

– সংগৃহীত 

কেউ সাফল্যের জন্য বছরের পর বছর চেষ্টা করে যান, কেউবা মাঠে নেমেই গোল দেন। আবার কেউ সাফল্যের জন্য পরিশ্রম না করে একঘেয়ে জীবনের ঘানি টানেন।


“ যেখানে পরিশ্রম নেই, সেখানে সাফল্য নেই।“- উইলিয়াম ল্যাংয়েড

সফলতা  অর্জনের জন্য যেসব গুণ আপনার  মধ্যে অবশ্যই থাকতে হবেঃ


অজুহাত না দেখানো

সবসময় অজুহাতকে দূরে রাখতে হবে।

অজুহাত এক ধরনের মনের দুর্বলতা যা আপনার সাফল্যের পথে বাধা দিতে পারে।

আপনি যদি সঠিক আবহাওয়া ও বায়ুপ্রবাহের জন্য অপেক্ষা করার অজুহাতে গাছ লাগানোর কাজটি পিছিয়ে দেন, তবে কখনোই গাছটি লাগাতে পারবেন না ও এর ফলও ভোগ করতে পারবেন না।


অনুপ্রেরণা

এটি হলো একটি অভ্যন্তরীণ শক্তি যা আপনাকে লক্ষ্য অর্জনের জন্য পদক্ষেপ নিতে বাধ্য করবে। সাফল্য পেতে চাইলে নিজেই নিজেকে অনুপ্রাণিত করতে হবে। এতে আপনার লক্ষ্য পূরণে সহায়তা হবে।


জীবন মানে নিরন্তর ছুটে চলা.. পদে পদে বাধা-বিপত্তি, প্রতিকূলতায় রক্তাক্ত ক্ষতবিক্ষত হওয়া, সে ক্ষত মুছে আবার প্রবল আগ্রাসে ঝাঁপিয়ে পড়া.. সংগ্রাম এবং সাফল্য – এই তো জীবন! — Roy T. Bennett


সবকিছুই আজকের বিষয়

ভবিষ্যৎ কিংবা অতীত বলে তেমন কিছু নেই, বিষয়টি আপেক্ষিক। সাফল্যের জন্য আপনাকে আজ কাজ করতে হবে। আজ যদি কাজ ভালো করেন তাহলে কিন্তু দারুণ একটি ভবিষ্যৎ অপেক্ষা করছে আপনার জন্য। আর যদি আজকের দিনটিতে আপনি কোনো কাজই না করেন, তাহলে কিন্তু আগামীকাল বলবেন আমার অতীতটা তেমন ভালো কাটেনি। চেষ্টা করুন প্রতিদিন, প্রতিমুহূর্ত নিজের জন্য কাজ করতে। কাজের সঙ্গে সঙ্গে পরিবার ও নিজের উন্নতির জন্য ঘড়িতে সময় রাখার দিকেও খেয়াল রাখতে হবে। প্রতিদিন ১ শতাংশ হলেও নিজেকে বদলে ফেলার চেষ্টা করতে পারেন।


একটি লক্ষ্য ঠিক করো। সেই লক্ষ্যকে নিজের জীবনের অংশ বানিয়ে ফেলো। চিন্তা করো, স্বপ্ন দেখো। তোমার মস্তিষ্ক, পেশী, রক্তনালী – পুরো শরীরে সেই লক্ষ্যকে ছড়িয়ে দাও, আর বাকি সবকিছু ভুলে যাও। এটাই সাফল্যের পথ।” – স্বামী বিবেকানন্দ

>

দিনের কাজ দিনে শেষ করা

ঘুম থেকে উঠার পর আপনার আজকের দিনের কী কী কাজ আছে তা সাজিয়ে ফেলতে হবে। আবার ঘুমাতে যাওয়ার আগে সেই কাজগুলো শেষ করে ফেলতে হবে। কোনো কাজ বাকি রেখে ঘুমোতে যাবেন না।


"আপনি যা করছেন, যদি ভালোবাসেন এবং ওই কাজে সফলতার জন্য সবকিছু করতে ইচ্ছুক থাকেন, তাহলে সেটা হাতের নাগালে পৌঁছবে। কাজের পেছনে প্রতিটা মিনিটের মূল্যায়ন প্রয়োজন। ভাবুন আর ভাবুন; যে আসলেই আপনি কি নকশা অথবা তৈরি করতে চাচ্ছেন।"  - স্টিভ ওজনিয়াক


ইতিবাচক চিন্তাভাবনা

নিজেকে সবসময় ইতিবাচক চিন্তাভাবনায় রাখতে হবে।


“ভালো কিছু চিন্তা কর, কারণ আমাদের চিন্তা এক সময় প্রতিজ্ঞায় পরিণত হয়” মহাত্মা গান্ধী।


ইতিবাচক মানুষের চারপাশে থাকুন

বিপণন গুরু বলে পরিচিত মেরি পোরটাস বলছেন, কারো চারপাশে যদি ইতিবাচক মানুষ সব সময় থাকে, তাহলে নিজের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা কিংবা ব্যর্থতা নিয়ে দ্বিধাগ্রস্ত থাকার কথা নয় তার।

"আমার এজেন্সিতে আমরা এমন মানুষ নিয়োগ দেই, যারা আলো ছড়ান চারপাশে, যারা অন্যকে হীনমন্যতায় ডুবিয়ে দেন তাদের নয়।"

তিনি বলছেন, "যারা সব সময় সব পরিস্থিতিতে ইতিবাচক থাকেন, সব কাজ 'পারব' বলে রাজি হয়ে যান ও সেটা পাবার জন্য নিজের সেরাটা দেন এমন মানুষ পছন্দ আমাদের।"

"যারা নিজেরা এনার্জিতে ভরপুর থাকেন, তারা অন্যকেও উৎসাহ দিতে পারেন। যদি উন্নতি করতে চান, তাহলে যারা মনমরা থাকেন বা অহমপূর্ণ আচরণ করেন তাদের থেকে দূরে থাকুন।"

নেতিবাচক চিন্তাধারা মনে জায়গা দেওয়া যাবেনা। সামান্য কিছুতেই ভেঙে পড়া যাবেনা। আবার সামান্য কিছু পেয়েও এত খুশি হওয়া যাবেনা।


ভয় বনাম জড়তা

আপনি সবার সামনে কথা বলতে ভয় পান। আবার যা বলতে চান তা ঠিকমতো বলতে পারেন না। সফল ব্যক্তিরা নিজের ভয়কে জয় করতে সামনে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। আপনি যে বিষয়ে ভয় পান, সে বিষয়টিকে ভয় হিসেবে মনে করলে আজীবনই তা আপনার জন্য জড়তা। ভয় কাটিয়ে জড়তা এড়িয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করুন।

 “সাফল্যের মূল মন্ত্র হল যা আমরা ভয় পাই তার উপর নয় বরং আমরা যা চাই তার উপর আমাদের চেতন মনকে কেন্দ্রীভূত করা ।” -ব্রায়ান ট্রেসি


আত্মবিশ্বাস

সাফল্য পেতে চাইলে নিজের উপর বিশ্বাস থাকতে হবে। আত্মবিশ্বাস আপনাকে সাফল্যের চরম শিখরে পৌছে দিতে সাহায্য করবে।

"জীবনে সফল হতে চাইলে দু’টি জিনিস প্রয়োজন: জেদ আর আত্মবিশ্বাস” – মার্ক টোয়েন


ঝুঁকি নেওয়া

কোনো কাজে সফল হতে চাইলে ঝুঁকি নেওয়াটা জরুরি। কেউ কখনো এটা করেনি বলে আপনিও পারবেন না এমন চিন্তা রাখা যাবেনা। ঝুঁকি নেওয়ার চ্যালেন্জ আপনাকে সফলতার দিকে নিয়ে যাবে।

আপনি যদি জীবনে অস্বাভাবিক ঝুঁকি নিতে ইচ্ছুক না থাকেন তাহলে আপনি অসাধারণ কিছু প্রাপ্তির আশা করবেন না । 

স্বাস্থ্যকে গুরুত্ব দিতে হবে

শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য দুটোই গুরুত্বপূর্ণ। স্বাস্থ্যের সঙ্গে কিন্তু আমাদের অভ্যাসগুলো জড়িত। খুব সহজে বদভ্যাসে জড়িয়ে পড়া যায়, সুঅভ্যাসের জন্য সময় দিতে হয়। সাফল্যের জন্য শরীরের যত্ন নিতে হবে, নিয়মিত ব্যায়াম করতে হবে। বুদ্ধিবৃত্তিক বিষয়ে জোর আনতে হবে। সৃজনশীলতার বিকাশে নজর দিতে হবে। নেতিবাচক মানুষ ও পরিবেশ এড়িয়ে চলতে হবে।

আপনার সাস্থ্যকে সুস্বাস্থ্য হিসাবে তৈরি করা আপনার প্রথম দায়িত্ব কেননা এটি না করলে বাকি সব দায়িত্ব থেকে আপনাকে অব্যাহতি নিতে হবে ।

– বুদ্ধ


ভুল সংশোধন

নিজের ভুলটা স্বীকার করে তা সংশোধন করতে হবে। নিজের সমালোচনা নিজেকেই করতে হবে। তাহলে নিজের ভুলগুলো নিজে সংশোধন করতে পারবেন।

 যে কখনো ভুল করেনি সে কখনো নতুন কিছু চেষ্টাই করেনি।

— আলবার্ট আইনস্টাইন


রাগ নিয়ন্ত্রণ

ভালোবাসা, দুঃখ-বেদনার মত রাগও একটি আবেগ। ছোট কিংবা বড় বিভিন্ন ঘটনায় আমরা রাগ প্রকাশ করি। কিন্তু এই আবেগটি বেশি প্রকাশ পেলে নানা বিপত্তি তৈরি হয়।

শক্তিশালী সে, যে রাগের সময় নিজেকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারে।

-হযরত মোহাম্মদ সাঃ 


ধৈর্য ধরুন

ধৈর্য বলতে সহনশীলতা বা সহনশীলতার গুণাবলী এবং প্রতিকূলতা বা দুর্দশার মুখে শান্তভাবে অপেক্ষা করার ক্ষমতা বোঝায়। একজন ধৈর্যশীল ব্যক্তি শান্ত এবং যুক্তিপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে, তাদের লক্ষ্য অর্জন করতে এবং তাদের স্বাস্থ্য এবং সামগ্রিক মানসিক সুস্থতার উন্নতি করতে সক্ষম। এটি এমন একটি অপরিহার্য গুণ যা প্রত্যেকেরই থাকতে হবে।

”ধৈর্য্যই হলো সাফল্যের প্রধান শর্ত।“- বিল গেটস


মাথা খাটান

অসউইজ কনসেন্ট্রেশন ক্যাম্প থেকে ফিরে আসা মনোবিজ্ঞানী এডিথ এজের বলেন, যেকোন পরিস্থিতিতে নিজের বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করুন।

"আমার মা বলতেন আমরা কোথায় যাব জানি না, আমাদের জীবনে কী ঘটবে আমরা জানি না।

কিন্তু আমাদের মাথার ভেতরে কী আছে সেটা যেমন অন্যরা জানে না, তেমনি সেটা কেউ ছিনিয়ে নিতেও পারবে না।"

"আমি অ্যামেরিকায় এসেছি শূন্য হাতে, ইংরেজি জানতাম না। কিন্তু দেখুন আমি এই দেশের একটি নামী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনার্স নিয়ে স্নাতক পাস করেছি। আমি সবাইকে বলি মানুষের সবচেয়ে বড় শক্তি তার মাথা খাটানোর ক্ষমতা।"


ব্যর্থতা জীবনের শেষ কথা নয়

কোন কাজে ব্যর্থ হলে ভাববেন না আপনার জীবন শেষ।

বরং ভাবুন এটা আপনার জীবনের একটা 'কমা' মানে স্বল্প বিরতি, 'ফুলস্টপ' বা শেষ নয়।

এখন বা এই মুহূর্তে হয়নি বা হওয়ার সম্ভাবনা নেই এমন কিছু কাল হবে না, তার কোন মানে নেই।তাই চেষ্টা করে যান, আজ নয়তো কাল, আপনি অবশ্যই সফল হবেন।


”ব্যর্থতার ছাই থেকে সাফল্যের প্রাসাদ গড়ো। হতাশা আর ব্যর্থতা হলো সাফল্যের প্রাসাদের দুই মূল ভিত্তি।” -ডেল কার্নেগী


শেষকথাঃ 

তো "জীবনে সফল হওয়ার কিছু উপায় " নিয়ে লেখা আর্টিকেলটি আপনাদের কেমন লাগলো জানাতে ভুলবেন না ! যদি ভালো লেগে থাকে তবে অবশ্যই একটি কমেন্ট /বন্ধুদের সাথে শেয়ার করে দিবেন।আর সবাই ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন ,জানবে বিডি - Janbe BD এর সাথেই থাকুন।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করেননি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

জানবে বিডি ওয়েবসাইটের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url